শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ইসলামে মধ্যপন্থা

মনসুর আহমদ
অধুনা মুসলিম বিরোধী শক্তি গোটা মুসলিম জাতিকে দুইটি শিবিরে বিভক্ত করে তাদের ধ্বংসে মেতে উঠেছে। একটি দলকে সরাসরি মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদেরকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। যেসব দেশ তাদের এই জঘন্য হত্যাযজ্ঞকে নীরবে সহ্য করছে বা তাদেরকে সমর্থন জানাচ্ছে সে সব দেশের মুসলমানদেরকে ‘মডারেট’ বা ‘মধ্যপন্থী’ আখ্যা দিয়ে আপাতত নিধনযজ্ঞ থেকে বাইরে রাখছে।
সাম্প্রতিক কালের মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর উপর আমেরিকার আচরণ মুসলিম জাতিকে ভাবিয়ে তুলছে। আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে দেশটিক চুরমার করে দিল আমেরিকা। ইরাক, ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে ধ্বংস করে দিল বুশ প্রশাসন। আমেরিকার সমর্থন ও মদদে ফিলিস্তিনকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করল ইসরাইল। ভারতে হাজার হাজার মুসলমান নর-নারীকে খুন করা হলো, শত শত মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করা হলো, বলা হলো এরা সব সন্ত্রাসী। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিঃ বাজপেয়ী বল্লেন, ‘যেখানে মুসলমান সেখানেই সন্ত্রাস, তাদের ধর্ম সন্ত্রাস শেখায়।’ এভাবে যখন বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী নিধনের নামে আক্রমণ চালান হচ্ছে তখনই বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরী অ্যানপিটার্স বাংলাদেশকে আখ্যায়িত করেছেন মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবে। আমেরিকার এক সময়ের ফার্স্ট লেডী হিলারীও বাংলাদেশকে ‘মডারেট’ মুসলিম কান্ট্রি রূপে পরিচয় করালেন বিশ্বের কাছে। পিটার্স ও হিলারীর দেওয়া সার্টিফিকেট বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে রাজনৈতিকভাবে আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করলেও  জাতীয় বৈশিষ্ট্য রক্ষার ক্ষেত্রে বিপদে নিপতিত করেছে। আমেরিকা চায় বিশ্বের মুসলিম সমাজকে ‘মডারেট’ মুসলমান হিসেব টিকিয়ে রাখতে, মুসলিম জাতি যদি আপতঃমধুর ‘মডারেট’ শব্দে নিজেদেরকে পরিচয় দিয়ে টিকে থাকতে চায়, তবে তারা মুসলিম জাতির বৈশিষ্ট্য হারিয়ে অন্য কিছুতে পরিবর্তিত হবে। আর তা হবে মুসলমান জাতির জন্য মরণ সমতুল্য। যারা  মুসলিম জাতিকে ‘লিবারেল’ না বলে ‘মডারেট’ বলে পেশ করতে চান, তারা কুরআনের ব্যবহৃত ‘ওয়াসাত’ শব্দটিকে বিকৃত অর্থে পেশ করে থাকেন। অতএব আমরা যারা নিজদেরকে ‘মধ্যপন্থী’ পরিচয় দিয়ে গৌরব বোধ করি  তাদের উচিত কুরআনের পরিভাষা ‘উম্মাতাও ওয়াসাতান’Ñমধ্যপন্থী জাতির তাৎপর্য অনুধাবন করা। ‘উম্মাতাও ওয়াসাতান’ আয়াতাংশের আলোচনায় বিভিন্ন মনীষী যা আলোচনা করেছেন তার কিছু সামান্য অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলে।
‘মুসলমানদের আচরণ একদেশদর্শী বা পক্ষপাত দোষে দুষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে : (এমনিভাবে তোমাদেরকে আমি এক মধ্যপন্থী উম্মতরূপে সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী স্বরূপ  হতে পার এবং  রাসুল  তোমাদের জন্য হবেন সাক্ষী স্বরূপ।) এখানে ‘ওয়াসাত’ অর্থ ইনসাফ ও মধ্যপন্থা ; অর্থাৎ,শক্তি ও কর্ম উভয়টার মধ্যে যেন সমন্বয় সাধন করা হয়।’(à§§)
‘মধ্যপন্থী’ শব্দটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাওলানা মওদূদী রহ. লিখেছেনёমধ্যপন্থী’ উম্মত শব্দটি অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক তাৎপর্যের অধিকারী। এর অর্থ হচ্ছে, এমন একটি উৎকৃষ্ট ও উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন্ দল, যারা নিজেরা ইনসাফ, ন্যায়নিষ্ঠা ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, দুনিয়ার জাতি সমূহের মধ্যে যারা কেন্দ্রীয় আসন লাভের যোগ্যতা রাখে, সত্য ও সততার ভিত্তিতে সবার সাথে যাদের সম্পর্ক সমান এবং কারো সাথে  যাদের কোনে অবৈধ ও অন্যায় সম্পর্ক নেই।’(২)
মাওলানা মওদূদীর রহ. অন্য এক জায়গায় বলেন, ‘মধ্যবর্তী উম্মত’ এর মানে হচ্ছে : মুসলমান একটি আন্তর্জাতিক দল (International party) দুনিার বিভিন্ন জাতির মধ্যে যে সব ব্যক্তি এক বিশেষ নীতিতে বিশ্বাস স্থাপন, এক বিশেষ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন এবং একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য প্রস্তুত, তাদেরকে বেছে একত্র করা হয়েছে। এরা যেহেতু বিভিন্ন জাতির মধ্য থেকে এসেছে এবং একটি বিশেষ দলে পরিণত হবার পর কোনো জাতির সঙ্গেই এদের সম্পর্ক নেই, এ কারণেই এরা মধ্যবর্তী উম্মত।(à§©)
কুরআনের প্রখ্যাত ইংরেজী ভাষ্যকার আবদুল্লাহ ইউসূফ আলী তাঁর THE
HOLLY QURAN নামক তাফসীর গ্রন্থে ‘উম্মাতাওঁ ওয়াসাতান’-এর ভাষ্যে লিখেছেন,‘
Justly balanced: The essence of Islam is to avoid all extravagance (the quality of
exceeding the appropriate limits of decorum or probability or truth. ) on either side, It is a sober, practical religion. But the Arabic word
(Wasad) also implies a touch of the literal meaning of intermediacy.( Intermediacy is a noun that means the act of acting as an intermediary or the state of being intermediate:)
কুরআনে মুসলমানদেরকে ‘মধ্যপন্থী জাতি’ বলে অভিহিত করার কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে ড. খলীফা আঃ হাকীম বলেন: ‘কুরআনে মুসলমানদেরকে ‘মধ্যপন্থী জাতি’ বলে অভিভহিত করা হেেছ। তা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নাম। ইসালমের পূর্বে  বহু বড় বড় জাতি ছিল যারা মহান সত্য আবিষ্কারে সমর্থ  হয়, কিন্তু তারা তাদের একতরফা উৎকর্ষের চরমে উঠে। হিন্দুরা চরম সত্তার ধারণাকে অতীন্দ্রিয় অদ্বৈতবাদ এবং পরমবাদে পরিণত করেছিল এবং জীবনের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিল ; তা ছিল একটা আংশিক সত্য। আল্লাহ অস্তিত্বের সমস্ত পরিবর্তন, আপেক্ষিকতা ও স্বাতন্ত্র্যের ঊর্ধ্বে। তিনি দূরেরও দূরে। কিন্তু কুরআন বলে, তিনি আবার নিকটতম থেকেও নিকটে। অতীন্দ্রিয় পরমবাদে মানুষের আত্মাকে সমস্ত সত্তার প্রকৃত সত্তা হিসাবে আল্লাহর সঙ্গে সদৃশ কল্পনা করা হতো, কিন্তু আল্লাহতে নিমজ্জিত হতে হলে ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিত্ব ও পরিচয়কে অবশ্যই খোয়াতে হয়। প্রকৃত দৃষ্টিতে দেখতে গেলে কোন নিমজ্জনই নেই, কেননা প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তির কখনো অস্তিত্বই ছিল না। সুতরাং আল্লাহর অতীন্দ্রিয় ও মানুষের ঐশীত্বে উভয়ই জীবনের অস্বীকৃতির দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরই ফলে উদ্ভূত হলো বৈরাগ্যবাদ ও কৃচ্ছতাবাদ এবং ব্যক্তি তার নির্ভত ধ্যানে আল্লাহকে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে, এই বিশ্বাস জীবনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্কের অবসান ঘটালো। এগুলো সবই ছিল সত্যের অতিরঞ্জন ও চরম পন্থা। এই সব ধ্যান -ধারণার মধ্যে  যে সত্যটুকু নিহিত ছিল ইসলাম তাকে গ্রহণ করে এবং পরিপূর্ণ  সামঞ্জস্যের সঙ্গে তাকে জীবনের অন্যান্য দিকের সঙ্গে সংযুক্ত করে। ইসলাম মধ্যপন্থা অনুসরণ করে এবং এই সব  সত্যের সমন্বয় করে।’(৪)
‘উম্মাতাওঁ ওয়াসাতান’ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মাওলানা আকরাম খাঁ তার তাফসীর গ্রন্থে লেখেন, ‘ওয়াসাত শব্দের আভিধানিক অর্থ-সমান ব্যবধানে অবস্থিত দুইটি সীমান্তের মধ্যভাগে বিরাজমান কোনো ব্যক্তি, বস্তু  বা বিষয়। ব্যবহারে উহার à¦…à¦°à§à¦¥Ñ à¦¨à¦¿à¦°à¦ªà§‡à¦•à§à¦· ও ন্যায় বিচার। ব্যক্তি, কোন বস্তুর মধ্য ভাগ বা কোনো দুইটি চরমপন্থি মতের সুসঙ্গত সমন্বয় ইত্যাদি।’
প্রকৃতপক্ষে মুসলমান জাতি ইহুদী খ্রিস্টানদের দু’টি চরম মতবাদের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনকারী জাতি। খ্রিস্টানগণ ঈসা (আ.)কে খোদা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে আর ইহুদীগণ হজরত মরিয়মকে ব্যভিচারিনী ও ঈসা (আ.)কে তাঁর অবৈধ সন্তান বলে মন্তব্য করেছে। পক্ষান্তরে মুসলমানগণ হজরত ঈসা (আ.)কে আল্লাহর বান্দা ও রসুল এবং তাঁর সম্পর্কে আল্লাহর অত্যালৌকিক কথা বলে বিশ্বাস করে।
‘উম্মতে ওয়াছাৎ’ শব্দটি এত ব্যাপক অর্থবোধক যে অন্য কোন ভাষায় অপর কোন শব্দ দ্বারা উহার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করা যায় না। ইহা হইতে এমন এক উচ্চ উন্নত ও উৎকৃষ্ট মানব দল বুঝায়, যাহা সুবিচার ন্যায়নীতি ও মধ্যমপন্থানুসরণ  নীতির উপর স্থাপিত; যাহা বিশ্বের জাতি সমূহের নেতা, অগ্রনায়ক ও কর্তা এবং পরিচালক হওয়ার মর্যদায় অভিষিক্ত; সকলের সহিত যাহার সমান ও সত্যভিত্তিক সম্পর্ক স্থপিত এবং অন্যায়, অবৈধ ও জুলুমমূলক সম্পর্ক কাহারো সাথে নাই।”(à§«)
মুসলিম সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছেঃ ‘আমি তোমাদেরকে ভারসাম্যপূর্ণ সম্প্রদায় করেছি। উপরোক্ত বর্ণনা থেকেই অনুমান করা যায় যে, ‘ওয়াছাৎ’ শব্দটি উচ্চারণ ও লেখায় একটি সাধারণ শব্দ হলেও তাৎপর্যের দিক দিয়ে কোন সম্প্রদায় অথবা ব্যক্তির মধ্যে যত পরাকাষ্ঠা থাকা সম্ভব, সে সবগুলোকে পরিব্যাপ্ত করেছে।
আয়াতে মুসলিম সম্প্রদায়কে মধ্যপন্থী, ভারসাম্যপূর্ণ সম্প্রদায় বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে যে, মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তাদের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। যে উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের যাবতীয় কর্মধারা অব্যাহত রয়েছে এবং পয়গম্বর ও আসমানী গ্রন্থসমূহ প্রেরিত হয়েছে, তাতে এ সম্প্রদায় অপরাপর সম্প্রদায় থেকে স্বতন্ত্রের অধিকারী ও শ্রেষ্ঠ।’(৬)
যে আয়াতটিতে মুসলমান জাতিকে ‘উম্মাতে ওয়াসাৎ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে সে আয়াতটিতে ইঙ্গিত রয়েছে কেবলা পরিবির্তনের ব্যাপারে। ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন Ñ ‘আমি তোমদিগকে ইবরাহীমের কিবলায় এই জন্য ফিরাইয়াছি যে, তোমাদিগকে সর্বোত্তম জাতিতে পরিণত করিব  যেন তোমরা কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের বেলায় সাক্ষী হইতে পার। কারণ, সকলেই তামাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মধ্যস্থতার স্বীকৃতি দানকারী হইবে।’ ইহাই মূলত আমাদের উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণ। যেমন কুরায়শগণ ‘আওসাতুল আরব’ বলিতে ঘর-বর সব দিকে উত্তম ব্যক্তিকে বুঝায়। তাই রসুল (স.) তাঁহার সম্প্রাদয়ের ‘ওয়াছাৎ’ (মধ্যস্থ) ছিলেন অর্থাৎ তাহাদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন। তদ্রুপ ‘সালাতুল উসতা’ অর্থাৎ সর্বোত্তম নামাজ। উহা হইল আসর নামায।  সহীহ সংকলন  সুনান  প্রভৃতিতে উহা সুপ্রমানিত। যখন এই উম্মতকে আল্লাহ তা’য়ালা সর্বোত্তম জাতি বানাইলেন, তখন তিনি তাদের শরীয়াতকে পরিপূর্ণ পদ্ধতিতে সুদৃঢ় ও তাহাদের ধর্মমতকে সুস্পষ্ট ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করিয়া দিলেন।’(à§­)
অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, নীতিবিদ্যা সব ক্ষেত্রে  ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করে । ‘মুসলিম জাতিকে কুরআন মধ্যমপন্থী জাতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে  বলে Ñএ জাতি প্রত্যেক চরম অবস্থায়ও সুবর্ণ মধ্যপন্থা  অনুসরণ করে। অর্থাৎ আদল বা ইনসাফপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণেই মুসলিম জাতি উম্মাতে ওয়াসাৎ বা খাইরা উম্মাৎ বলে অভিহিত হয়েছে পবিত্র কুরআনে।
এতক্ষণ আমরা কুরআনের আলোকে ‘উম্মাতাওঁ ওয়াসাতান’Ñএর তাৎপর্য বুঝবার কিছু চেষ্টা করলাম। এবারে নবী(স.) তাঁর জীবনে  ‘উম্মাতাওঁ ওয়াসাতান’র  যে বাস্তব নমুনা রেখে গেলেন  তার পরিচয় লাভ করার চেষ্টা করব। এ প্রসঙ্গে উপÑমহাদেশের প্রখাত আলেম মরহুম সায়্যিদ আবদুল লতীফ লিখিত  BASES OF ISLAMIC CULTURE গ্রন্থখানা থেকে সামান্য অংশ তুলে ধরা হলো। ‘সালেহীন মুত্তাকীন, মুফলেহীন, সাদিকীন, সিদ্দিকীন  বা অনুরূপ শ্রেণীর সদাচরী মানুষ-যারা তাদের মনমানসে আল্লাহর অস্তিত্বের  চেতনা পরিপূর্ণভাবে জাগ্রত রেখেছেন,  মানব সমাজে তেমন চরিত্রের নরÑনারী গড়ে তোলাই কুরআনের লক্ষ্য। এমন নিয়ন্ত্রিত মনের অধিকারা মহানবী (স)Ñএর একদল সাথী বা সাহাবী ও তাঁদের অনুসারীদেরকে  কুরআন ‘উম্মাতান ওয়াসাতা’ বা দুই চরম  মতের মধ্যপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছেন।  তাঁরা সর্বক্ষেত্রে সুষম জীবন যাপন করেছেন - যা ছিল মানব জাতির জন্য আদর্শ, যেমন মহানবী(স)Ñএর চরিত্র তাঁদের জন্য ‘উত্তম আদর্শ’ ছিল। যৌথ সমাজ জীবনে বা ধর্মীয় জীবনে যে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানুষের মনের উৎকর্ষ  সাধন করতে হবে এ দুটো শব্দ দিয়ে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই ‘উম্মাতান ওয়াসাতান’ কে সংগঠিত করে মহানবী(স) একটা রাষ্ট্রের Ñসর্বপ্রথম ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়া পত্তন করেন; যা কালক্রমে একটা বিশ্বব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়।’(à§®)
এ সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, ‘মডারেট’ কখনই ‘কুরআনের ‘ওয়াছাৎ’ অর্থ বহন করে না।  তাই যারা ‘উম্মাতান ওয়াসাতান’কে অপব্যখ্যা করে নরমপন্থী আপোষকামী বলে চালাতে চান তারা মুসলি জাতির শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে নস্যাৎ করতে  ম্যারি অ্যান পিটার্স, হিলারী ক্লিনটন বা পশ্চিমা অন্যান্য রজনীতিবিদদে দেওয়া ‘মডারেট মুসলিম’কে  আগ্রহ ভরে স্বীকার করে  নিয়ে আপাতঃ বিপদের হাত থেকে মুক্তি লাভের জন্য  বিরাট ভুল পথে হাঁটছেন।
আজ বিশ্বমুসলিম সমাজের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে এ সত্য অনুধাবন করা যে, মুসলমান কি ‘উম্মাতে ওয়াছাৎ’ হবে না ‘মডারেট নেশন’ হবে? মডারেট নেশন রূপে বেঁচে থাকতে  গেলে মুসলমানের শ্রেষ্ঠ উম্মতের বৈশিষ্ট্য  পরিত্যাগ করে অসত্যের প্রতি নতজানুও আপোষকামী নীতি গ্রহণ করতে হবে যা মুসলিম জাতির ধ্বংস বয়ে আনবে। অতএব আমাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ নয় ‘মডারেট’ও নয় বরং ‘উম্মতে ওয়াছাৎ’ বা ‘খায়েরু উম্মাত’-এর বৈশিষ্ট্য নিয়েই বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে।
তথ্যসূত্র :
১) আশরাফুল জওয়াব-হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) ; পৃ-৭৩-৭৪
(২) তাফহীমুল কুরআন-সূরা আল বাকারাহ ; টিকা নং ১৪৪
(à§©) তাফহীমাত)  
(৪)ড. খলীফা আঃ হাকীম;ইসলামী ভাবধারা-পৃ-১৪১)
(৫)তাফহীমুল কুরআন)
(৬)তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন)
(৭) ইবনে কাসীর)।
(৮)ইসলামী সংস্কৃতির বুনিয়াদ. পৃ ১৭৬

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ